বিজয় দিবসের ৩ দিন আগেও মানিকগঞ্জ অদম্য ৭১ ব্যানার ফেষ্টুনে ঢাকা

মোহাম্মদ হাসান ফয়জী: মাহান বিজয়ের
মাসেও মানিকগঞ্জের শহরের প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত
অধম্য ৭১ এর চার দিকে ব্যানার ও ফেস্টুনে ঢাকা রয়েছে। এতে
সাধারণ মানুষ, নতুন প্রজন্মসহ খোদ মুক্তিযোদ্ধারাও ক্ষোভ জানিয়েছেন। সরকার দলীয়
পোষ্টারে ঘিরে থাকায় সিনিয়র নেতা দুখঃ প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার মানিকগঞ্জ মুক্ত
দিবস হলেও সারা দিন দলীয়,ব্যাক্তিগত পোষ্টার ব্যানারে ঢাকাই ছিল অদম্য ৭১।
 মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাহাস ও ঐতিহ্যকে এ প্রজন্মদের নিকট তুলে ধরার জন্যই  মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে  ও মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্তাবধানে ২০১৫ সালে বাস স্ট্যান্ডে স্থাপন করা হয় অধম্য ৭১। 
কিন্তু এ অধম্য ৭১ স্থাপনের পর থেকে দিবস ছাড়া কোন যত্ন ও পরিস্কার করা হয় না। তাছাড়া সারা বছরই রাজনৈতিক দল ও নেতাদের ব্যানার, পোষ্টার, ফেস্টুন ও রং বেরংয়ের বিল বোর্ড এমন ভাবে স্থাপন করা হয় অধম্য ৭১ দেখাই যায় না। কিন্তু এ বছর
বিজয় মাসেও কর্তৃপক্ষের কোন সাড়া নেই। কিন্তু এ বছর মহান বিজয় দিবস উদযাপনের আর
মাত্র ৩ দিন বাকী থাকলেও বুধবার সকাল পযন্ত 
পোষ্টার ও ব্যানার দিয়ে ঢাকাই ছিল অদম্য ৭১।
 মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অদম্য ৭১ এর ৩
দিক থেকে
বড় ফেস্টুন সাটানো আছে। যার কারনে যাত্রী ছাউনি থেকে ঢাকিা– আরিচা মহাসড়ক পাড় হওয়ার সময় অধম্য ৭১ দেখাই যায় না। এমন চিত্র সারা বছরই দেখা যায়। এতে মুক্তিযোদ্ধের এ ভাস্কয যে উদ্যেশ্যে স্থাপন করা হয়েছে তা ব্যাহত হয়েছে বলে দাবী করেছেন খোদ রাজনৈতিক দলের নেতা, সংস্কৃতি কর্মী ও মুক্তিযোদ্ধোগণ।
তমাল
তরু চৌধুরী নামে এক পথচারী
জানান, মানিকগঞ্জ বাস ষ্টান্ডে স্থাপিত অধম্য ৭১ সামনে সারা বছর রাজনৈতিক দল, নেতা কর্মীদের পোস্টার এমন ভাবে সাটান, তাদের ভারে মুক্তিযোদ্ধের ভাস্কয চোখেই দেখা যায় ন। যা সত্যিই দৃষ্টিকুটু।
এমনকি বিজয়ের মাসেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সাংসদের কমান্ডার  ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার তবরাক হোসেন লুডু মানিকগঞ্জ ২৪ কে জানান, ভাবতে খুব অবাক
লাগে মহান বিজয়ের মাসেও নাগরিকদের অসেচতনা দেখে। এমন দিনেও আমাদের মুক্তিযোদ্ধের
স্বৃতি ও চেতনাকে প্রশ্ন বিদ্ধ করে রাখার জন্য।

 
তিনি আরো জানান, রাজনৈতিক দলগুলিকে ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানোর সময় আরো যগ্নবান হওয়ার পরামর্শ দেন এ
মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার।
এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটিরি মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি বীর ‍মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট দীপক ঘোষ জানান, অধম্য ৭১ এর সামনে যে প্রতিষ্ঠান, কিংবা রাজনৈতিক দল ব্যানার ও ফেস্টুন সাটিয়েছে তারা মুক্তিযোদ্ধ কে খাটো করেছে। তারা অধম্য ৭১ এর সুন্দয্য কে ব্যাহত করেছে। আমরা হতবাক হয়ে
যাই এই বিজয় দিবস উদযাপনের মহিন্ধখনেও বেহাইয়া পানা করে অদম্য ৭১ এর সামনে পোষ্টার
ব্যানার সাটানো  দেখে।
 অতি সত্তর পোষ্টার ও ফেস্টুন অপসারণ করতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
 এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাভভোকেট আব্দুস সালাম মানিকগঞ্জ২৪ কে জানান, অধম্য ৭১ এর সামনে আমাদের নিজ দলের একটি ব্যানার লাগিয়েছে। এ কাজটি ঠিক হয় নি বিধায় আমি এটাকে সরাতে বলেছি।

 মানিকগঞ্জ
জেলা প্রশাসক নাজমুছ সাদাত সেলিম জানান, আমার জানামতে অদম্য ৭১ এর সামনে একটি দলীয়
পোষ্টার সাটানো আছে। আর এ বিষয়টি পৌরসভা  দেখাশুনা করে। তার পরও বিষয়টি আমি খোজ নিয়ে
ব্যাবস্থা নিচ্ছি।
মানিকগঞ্জ পৌর সভার মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিম মানিকগঞ্জ২৪ কে বিষয়টি
স্বীকার করে
বলেন, আমি শহিদ রফিক
চত্তর নির্মাণ করেছি, এটিও কৌশলে পোষ্টার ফেষ্টুনে ডেকে ফেলেছে।  এর আগেও আমি কয়েকবার
 অধম্য ৭১ এর আশে পাশে সকল ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণ করেছিলাম। বিজয়
দিবসের আগেই
 অধম্য ৭১ এর দৃষ্টি নন্ধন ফিরে আনব ।
 
মানিকগঞ্জ২৪/
হা.ফ/ ১৩ ডিসেম্বর।
আরো পড়ুুন