মানিকগঞ্জে সংঘবদ্ধ হামলায় যুবক নিহত, মব সৃষ্টির অভিযোগ

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি, ৩১ মে.

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের উত্তর পুটাইল গ্রামে সংঘবদ্ধ হামলায় মো. সজিব হোসেন (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, শতাধিক ব্যক্তি জড়ো হয়ে মব সৃষ্টি করে এ হামলা চালায়। শনিবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। তবে এলাকাবাসী বলছেন সজীব হোসেনের নামে চুরি ডাকাতি ও মারামারি ৬ টি মামলা চলমান রয়েছে।

মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকরাম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত সজিব হোসেনের ভাই রাজীব বলেন, সজিব শনিবার রাতে উত্তর পুটাইল এলাকার কৃষ্ণনগরে লুৎফর রহমানের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে পূর্বশত্রুতার জেরে পুটাইল ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী বালিয়াবিল ও কৃষ্ণনগর এলাকার শতাধিক ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলা চালায়। হামলায় গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই সজিবের মৃত্যু হয়।

নিহত সজিব হোসেনের ভাই রাজীব আরো বলেন, আমার ভাইয়ের বিরুদ্বে মামলা আছে,সেটা সঠিক। দেশে আইন আছে। আদালতের মাধ্যমে সাজা হত। সেটা মেনে নিতাম। কিন্তু প্রকাশ্যে মব সৃষ্টি করে হত্যা করল। সেটা মেনে নিতে পারছি না।

এ ব্যাপারে পুটাইল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক রিক্তা আক্তারের মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করলে ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

তবে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার জায়েদুর রহমান বলেন, সজীব এলাকার ভাল ছেলে ছিল না। সে বিভিন্ন এলাকায় চাদা উঠাত। কালকে ১- ২ শত লোক তাকে হত্যা করেছে। কে কে ছিল ভাই এত মানুষ, উত্তেজনা কাউকে চিনি না। তবে সরকার যেহেতু বলছে মব করা যাবে না। সেখানে সজীবে প্রচলিত আইনে বিচার চাওয়া যেত। কিন্তু হত্যা করা এটা ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেন।

এ ব্যাপারে সাটুরিয়া সৈয়দ কালুশাহ বিশ^ বিদ্যালয় কলেজের সমাজ বিজ্ঞানের প্রভাষক শামিম আরা বলেন, যেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলছেন, মব বন্ধ করতে হবে। কিন্তু মানিকগঞ্জে মব বন্ধ হচ্ছে না। যে ছেলাটা কে হত্যা করা হল। তাকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে বিচার করা যেত। তবে এ ব্যাপারে সমাজে আরো সচেতনতা বৃদ্ধি করা দরকার মনে করেন।
এ ব্যাপারে নিহত সজীবে মা নাজমা বেগম বলেন, আমার সজীবের এক স্ত্রী ও এক দেড় বছরের কন্যা সন্তান রয়েছে। ওরা আইসা বলে, আমাকে মারব, আমার স্বামী সজীবের স্ত্রীকেও হত্যা করব। এমন ডাকাত দেখি নাই। আমার পোলাডারে কেমনে কুপাইয়া মারল। ওদের কি ভাই বোন নাই। একটু দয়া মায়া হইল না।

মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকরাম হোসেন বলেন, ঘটনার পর জাতীয় জুরুরী সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে, রাতেই ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি এবং মরদেহ উদ্ধার করি। “নিহত সজিব হোসেন ওই এলাকার মুনসের আলীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি ও মাদক-সংক্রান্ত ৬টি মামলা রয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, সজীবের ভাই রাজীব বাদী হয়ে ১০০- ১৫০ জন অজ্ঞাত আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হবে।”

মানিকগঞ্জ২৪/ হা.ফ/ ৩১ মে ২০২৬।

আরো পড়ুুন