আহ্বায়ক কমিটি নাকি পূর্নাঙ্গ কমিটি, অপেক্ষায় সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপি

হাসান ফয়জী,২৮ জুন.

সাটুরিয়া উপজেলার বিএনপির কমিটি সম্প্রতি বিলুপ্ত ঘোষনা করা হয়েছে। এর পর থেকেই কে হচ্ছেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং সুপার টেনে কারা ঠাই হচ্ছে তাই নিয়ে হচ্ছে আলোচনা। আবার পূর্নাঙ্গ কমিটি নাকি আহবায়ক কমিটি, সেটি নিয়ে চলছে আলোচনা। সদ্য বিদায়ী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও নতুনরা সাংগঠনিক ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন পদের জন্য। কিন্তু যাদের নামে বিভিন্ন অভিযোগ আছে তারা পদ পাবেন না এটা নিশ্চিত। মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক আফরোজা খানম রিতা অত্যন্ত ক্লিন ইমেজের। যাদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ পদে আসীন করলে বির্তক হবে না, এমন নেতাদের নিয়ে নতুন কমিটি হতে পারে।

আব্দুল কুদ্দুছ খান মজলিশ মাখন কে সভাপতি ও আবুল বাশার সরকার কে সাধারণ সম্পাদক করে সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির পূনাঙ্গ কমিটি বিগত ০১-০৩-২০২১ তারিখে অনুমোদন করা হয়। তৎকালিন মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটর আহবায়ক এ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান এবং সদস্য সচিব এস এ জিন্নাহ কবীর স্বাক্ষরীত ৯ জন উপদেষ্টা করে ১০৮ সদস্য কমিট অনুমোদন করেন।

সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির কমিটি ঘোষনার ৫ বছর ২ মাস ১৪ দিনের মাথায় গত ১৫ মে ২০২৬ তারিখে জেলা বিএনপির বর্তমান আহবায়ক কমিটির আহবায়ক আফরোজা খানম রিতার সভাপতিত্বে সভার সিদ্বান্ত অনুযায়ী জেলার ৭ টি উপজেলাসহ ২ টি পৌর সভার কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনা করেন।

কমিটি বিলুপ্তির পর থেকেই সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির কমিটিতে পদ প্রত্যাশিরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমর্থকরা দোয়া চেয়ে পোষ্ট করছেন। আবার গোপনে অনেকেকেই বেনামে ফেসবুকের মাধ্যমে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক পদ প্রার্থীদের চরিত্র হনন করে মিথ্যা পোষ্টও করছেন।

সাটুরিয়া উপজেলায় ৯টি ইউনিয়ন রয়েছে। ২০০১ -২০০৬ সনে বিএনপির ক্ষমতার সময়ে এ আসনে এমপি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী হারুণার রশিদ খান মুন্নু। তখন থেকে সাটুরিয়া উপজেলার বিএনপি ও অংগ সংগঠনের অবিভাবক ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর হাল ধরেন তার কন্যা বর্তমান সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এমপি। আফরোজা খানম রিতা মন্ত্রী ছাড়াও সাটুরিয়া- মানিকগঞ্জ ৩ আসনের এমপি। তিনি ২০১৩ সাল থেকে জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব নেবার পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত তিনি জেলা বিএনপির কর্ণধার হিসেবে সর্বজন শ্রদ্ধেয়।

সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আব্দুর রহমান বলেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক আফরোজা খামন রিতা আপা, দলের দায়িত্ব নেবার পর থেকে সাটুরিয়া উপজেলার বিএনপির সকল অংগ সংগঠনের নেতা কর্মীদের আগলে রেখেছেন। বিগত আওয়ামী লীগের সময়ে সাটুরিয়ার কোন নেতা ও কর্মী জেলে গেলে তার এবং তার পরিবারের সকল দায়িত্ব নিয়েছেন। তাই তিনি যাদেরকে দিয়ে কমিটি করবে তাদেরকেই মেনে নিবে নেতা কর্মীরা।

সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল কুদ্দুছ খান মজলিশ মাখন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সরকার, সাবেক সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুদল আওয়াল, জিয়া পরিষদের সভাপতি প্রভাষক মিজানুর রহমানের নাম শোনা যাচ্ছে সভাপতি পদে। এই চার জনের মধ্যে যে কোন একজন সভাপতি হতে পারেন।

অপরদিকে সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে সাবেক ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুর রহমান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন আযাদ বিপ্লব এবং যুব দলের আহবায়ক মোহাম্মদ আমীর হামজার নামও শোনা যাচ্ছে।

তবে মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য বলেছেন, সাটুরিয়া উপজেলা পূর্নাঙ্গ কিংবা আংশিক কমিটি হবে না। ছোট একটি আহবায়ক কমিটি হতে পারে। সেই কমিটি ইউনিয়ন কমিটি করবেন। পরে গণতান্ত্রিক পন্থায় নির্বাচনের মাধ্যমে সাটুরিয়া উপজেলা কমিটি হতে পারে।

সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কিছু নেতা কর্মীরা আগামী দিনের রাজনীতির মেরুকরণে সাবেক কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদেও উপজেলা কমিটির উপদেষ্টা এবং জেলা কমিটির সহ সভাপতি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখা যেতে পারে। সেই সিসেবে সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদে প্রভাষক মিজানুর রহমান সাধারণ সম্পাদক এবং শাহীন আযাদ বিপ্লবকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি হতে পারে।

তারা আরো বলেন, সাবেক ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুর রহমানকে সহ সভাপতি, যুবদলের আহবায়ক মোহাম্মদ আমীর হামজাকে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দেখা যেতে পারে। সুপার ফাইভে ও কিংবা সুপার টেইনে নাম আসতে পারে সাটুরিয়া কৃষক দলের সভাপতি বরকত মল্লিক, দরগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাবুল মাষ্টার, সাটুরিয়া উপজেলা যুবদলরে যুগ্ম আহবায়ক বকুল, সেচ্ছা সেবক দলের আহবায়ক মহসিন উজ্জামানদেরকেও।

তবে সদ্য সাবেক হওয়া বিএনপির সভাপতি আব্দুল ক্দুুছ খান মজলিশ মাখন বলেন, আমি সারা জীবন বিএনপি কে দিয়ে এসেছি। কোন সময় আমি বিএনপিকে ছেড়ে যাই নি। বিগত উপজেলা নির্বাচনে আমি শক্তিশালি প্রার্থী ছিলাম। দলের নির্দেশে আমি সড়ে এসেছি। তাই বিগত সময়ের আন্দোলন সংগ্রামে আমার ভূমিকা ছিল, তাই এবারও সভাপতির পদ চাওয়া যৌক্তিক দাবী।

সদ্য সাবেক হওয়া সাটুরিয়া বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সরকার বলেন, আমি জিয়ার রহমানের জাগো দল থেকে শুরু কওে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। দল যখন বিপর্যয় পড়েছে, তখনই আমি আটক হয়েছি। জেল জুলুমের স্বীকার হয়েছি। বিগত ১৭ বছরে আন্দোলন সংগ্রামে শত শত নেতা কর্মী নিয়ে আন্দোলনে সক্রিয় অংশ গ্রহণ করেছি। সব মিলিয়ে ১৬-১৭ টি মামলার আসামী আমি। তাই আমি দলের প্রতি নিরাশ নই। ত্যাগিদের মূল্যায়ন হলে আমি মুল্যায়ন পাব।

সাটুরিয়ার একাধিক নেতা কর্মীরা বলেন, এবার বিএনপি কমিটি হলে তরুণদের জয়জয়কার হতে পারে। সেই হিসেবে সাটুরিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং সদস্য সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন আযাদ বিপ্লবের সাধারণ সম্পাদক হতে পারেন এমন গ্রীণ সিগনাল রয়েছে। কারন তিনি ছাত্রদলের সভাপতি পদে থাকা কালিন যে সাংগঠনিক ভাবে প্রচন্ড জনপ্রিয় ছিলেন। তার পর সাটুরিয়ায় আর ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিই হয়নি। আর কোন ছাত্র নেতা তার মত জনপ্রিয়তার কাছেও কেহ যেতে পারেনি। তাছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অর্থাৎ ৫ আগষ্টের পর তিনি স্বচ্ছতায় রয়েছেন। তার নামে কোন অভিযোগ উঠেনি।

এ ব্যাপারে শাহীন আযাদ বিপ্লব বলেন, ফেসবুকে কমিটির শীর্ষ পদ প্রত্যাশীরা প্রচারণা চালাতেই পারে। কিন্তু মিথ্যা পোষ্ট, প্রাপাগান্ডা করা মোটেও ঠিক না। আমি দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। দল আমাকে যেখানে যোগ্য মনে করবে সেখানে থেকে দলের জন্য কাজ করে যাব।

এ ব্যাপারে সাবেক ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুর রহমান বলেন, বিগত সময়ে আমরা যে কোন পরিস্থিতি সাটুরিয়া বিএনপিকে চাঙ্গা রাখতে কাজ করেছি। সভাপতি , সাধারণ সম্পাদক/ সভাপতি কোন বিষয় না। যেখানে আমাকে দায়িত্ব দিবে সেখান থেকেই দলের জন্য সর্বোচ্চ কাজ করে যাব।

মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আ ফ ম নুরতাজ আলম বাহার বলেন, জেলার সকল ইউনিটের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। ত্যাগি পরীক্ষতি, সৎ, যোগ্য এবং যে নেতাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ । নতুন ও প্রবিণদের সমন্বয়ে সাটুরিয়া উপজেলা আহবায়ক কমিটি ঘোষনা করা হবে। সেই কমিটি ইউনিয়ন কমিটি সম্পন্ন করবেন। পরে কাউন্সিলের মাধ্যমে সাটুরিয়া উপজেলা কমিটি করা হবে।

মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক এবং বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরো খান রিতা বলেন, যাদের বিগত দিনে আন্দোলন, সংগ্রাম, জাতীয় নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। কোন গ্রুপিং ও দুর্নীতির সাথে সাথে জড়িত নেই এবং জনগণ ডাকলেই যাদের সব সময় কাছে পান, সাটুরিয়া উপজেলা কমিটি করার সময় এ সমস্ত নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে।

মানিকগঞ্জ২৪/ হা.ফ/ ২৮ জুন ২০২৬।

আরো পড়ুুন