সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি: ২৯ জুলাই:
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দের পুরো অর্থ ব্যয় না করে অব্যবহৃত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা বাংলাদেশে খুব একটা দেখা যায় না। এমন বাস্তবতায় মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার চন্দ্রখালী খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ব্যতিক্রমী এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রায় ২ কোটি ৮৩ লাখ টাকার প্রকল্পের কাজ শেষ করে অব্যবহৃত ১ কোটি ২২ লাখ ২ হাজার ১৫৬ টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম সরকারি কোষাগারে ওই অর্থ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ফেরত দেন। উপজেলা প্রশাসনের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর বাস্তবায়িত ‘দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার পুনঃখনন’ কর্মসূচির আওতায় ‘অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)’ থেকে সাটুরিয়া ও বালিয়াটি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ৬ দশমিক ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ চন্দ্রখালী খাল পুনঃখননের জন্য ২ কোটি ৮৩ লাখ ২৭ হাজার ৬২৩ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
প্রকল্পের ব্যয় বিবরণী অনুযায়ী, পুরো কাজ শেষ করতে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ২৬ হাজার ৪২৬ টাকা। ফলে বরাদ্দের অবশিষ্ট ১ কোটি ২২ লাখ ২ হাজার ১৫৬ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রকল্পে অব্যবহৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার এমন নজির স্থানীয় প্রশাসনিক মহলেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খালের নকশা, পরিমাপ ও কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হয়েছে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যয় না করেই নির্ধারিত কাজ শেষ হওয়ায় বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।
গত ১১ মে গাজীখালী নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। পুনঃখননের ফলে চন্দ্রখালী খালের নাব্যতা বৃদ্ধি, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা, কৃষি উৎপাদনে সহায়তা এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে ইউএনও কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, “প্রকল্পের কাজ শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। মোট ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ২৬ হাজার ৪২৬ টাকা। অবশিষ্ট ১ কোটি ২২ লাখ ২ হাজার ১৫৬ টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।”
প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যয় না করে অব্যবহৃত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ার এই উদ্যোগ সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা ও সুশাসনের ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, এমন উদ্যোগকে আরও কার্যকর করতে প্রকল্পের ব্যয়, পরিমাপ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশের সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।
মানিকগঞ্জ২৪/ হা.ফ/ ২৯ জুলাই ২০২৬।