জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা: সাটুরিয়ায় এক কর্মচারীর সংবাদ সম্মেলন

সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি, ২৩ আগষ্ট:

নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবন-নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার তারাসিমা অ্যাপারেলস লিমিটেডে নামে একটি তৈরি পোশাক কারখানার সিনিয়র মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট মো. সোলায়মান হোসেন।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকাল ৩ টার দিকে সাটুরিয়া প্রেসক্লাবের হলরুমে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, একটি প্রতিষ্ঠানের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও তার কয়েকজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির বিরুদ্ধে তিনি গুরুতর অভিযোগ তদন্ত কমিটির সামনে প্রকাশ করার পর থেকে নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন।

মো. সোলায়মান হোসেন বর্তমানে সাটুরিয়ার গোলড়ায় অবস্থিত তারাসিমা অ্যাপারেলস লিমিটেডে সিনিয়র মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মরত। তিনি জানান, ২০১৭ সালের ৪ মার্চ থেকে তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে চাকরি করছেন।

লিখিত বক্তব্যে সোলায়মান হোসেন অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কর্মস্থলে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর তৎকালীন প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) সাসাংকা জয়বিক্রমার চাকরির অবসান ঘটে। পরে তিনি ডেকো গ্রুপের আগামী অ্যাপারেলস লিমিটেডে যোগদান করেন বলে সোলায়মান হোসেন জানতে পারেন।

সোলায়মান হোসেনের দাবি, সাসাংকা জয়বিক্রমার সঙ্গে পূর্বের কর্মস্থল থেকেই তার পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা ছিল। এ কারণে তারাসিমা অ্যাপারেলস থেকে সাসাংকা জয়বিক্রমার চলে যাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানের টেকনিক্যাল ম্যানেজার মিজানুর রহমান মিজান একাধিকবার তার কাছে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের মোবাইল নম্বর চান। তবে তিনি নম্বর দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের ছুটির দিনে মিজানুর রহমান মিজানের অনুরোধে তিনি সাটুরিয়ার বাথুলী এলাকায় ফিনিশিং ম্যানেজার রনি আহাম্মদের বাসায় যান। সেখানে সাসাংকা জয়বিক্রমা, মিজানুর রহমান মিজান এবং মনির আহমেদ বাবু উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
সেখানে সাসাংকা জয়বিক্রমা তার কাছে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের মোবাইল নম্বর চান এবং সহযোগিতার জন্য চাপ দেন বলে অভিযোগ করেন সোলায়মান হোসেন। তিনি দাবি করেন, নম্বর দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয় এবং বৈঠকের কথা কাউকে জানালে তার ‘অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে’ বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে গত ২ জুন কালামপুরে নিজের দোকানে অবস্থানকালে মিজানুর রহমান মিজান আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে তার দোকানে যান বলে অভিযোগ করেন সোলায়মান হোসেন। তার দাবি, এ সময় তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় ২০ মিনিট পর ফোনটি ফেরত দেওয়া হলেও চেয়ারম্যানের নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে তাকে জানানো হয়।

সোলায়মান হোসেন আরও অভিযোগ করেন, পরে তাকে ফোনে নির্দিষ্ট কিছু কথা বলতে বাধ্য করা হয় এবং কথোপকথনের পর আবারও তার মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া হয়। তার ভাষ্য, তাকে বলা হয়—ফোনের কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে তাকেই ফাঁসানো হতে পারে এবং ফোনের সব তথ্য মুছে ফেলা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও দাবি করেন, এ ঘটনায় প্রতিবাদ বা মুখ খুললে আরও সমস্যায় পড়তে হবে বলে তাকে সতর্ক করা হয়। ১৪ এপ্রিলের বৈঠকে সাসাংকা জয়বিক্রমার সঙ্গে বসে থাকার একটি ছবি থাকার কথাও বলে তাকে ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ তার।

সোলায়মান হোসেনের অভিযোগ, পরে তাকে মোবাইল হারানোর কথা উল্লেখ করে থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে এবং চেয়ারম্যানকে পাঠানো হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে মোবাইল ফোন হারিয়ে গিয়েছিল বলে জানাতে পরামর্শ দেওয়া হয়।

এদিকে, তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর থেকে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের কাছে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পাঠানোর ঘটনায় কর্মস্থল কর্তৃপক্ষ তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। নোটিশের জবাবে তিনি ১৪ এপ্রিলের বৈঠকসহ সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর কথা উল্লেখ করেন বলে জানান।

এরপর কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে আবারও কালামপুরে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় অন্য একটি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সাসাংকা জয়বিক্রমার সঙ্গে তার কথা বলানো হয় বলে দাবি করেন সোলায়মান হোসেন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, কারখানার ভেতরে এমন লোক রয়েছে যারা গোলযোগ সৃষ্টি করে তার ক্ষতি করতে পারে—এমন কথাও তাকে বলা হয়।

সম্প্রতি ১৬ ও ১৮ আগস্ট তার কর্মস্থল কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। সোলায়মান হোসেন জানান, তিনি তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত হয়ে পুরো ঘটনাপ্রবাহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন।

তবে তদন্তে এসব তথ্য প্রকাশের পর থেকেই নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি আরও বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন।

তিনি বলেন, “চাকরি চলে যাওয়া আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় নয়। কিন্তু তদন্ত কমিটির সামনে সব ঘটনা প্রকাশ করার পর আমার ও আমার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আমি অত্যন্ত আতঙ্কিত। আমি শুধু চাই, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার পর নয়, ঘটনার আগেই আমার ও আমার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।”

সোলায়মান হোসেন জানান, নিরাপত্তার আশঙ্কায় গত ২২ আগস্ট রাতে তিনি ধামরাই থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযোগে উল্লিখিত হুমকি ও ঘটনাগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

তবে তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, আদালতের বিচারের আগে তিনি কাউকে অপরাধী হিসেবে ঘোষণা করতে চান না; বরং তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া কথিত ঘটনাগুলো ও হুমকির অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদ্বয় সাসাংকা জয়বিক্রমা, মিজানুর রহমান মিজানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মানিকগঞ্জ২৪/ হা.ফ/ ২৩ অক্টোবর ২০২৬।

আরো পড়ুুন