মোহাম্মদ হাসান ফয়জী: উপজেলার সাটুরিয়া– গওলা সড়কের হান্দুলিয়া গ্রামের সড়কে হাটু পানি থাকায় হাজার হাজার পথচারীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরেসজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাটুরিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের হান্দুরিয়া গ্রামের সরকার বাড়ী থেকে হালিমের দোকান পযন্ত সড়কে সামান্য বৃষ্টি নামলেই হাটু পানি থাকে। এ সড়কের পাশে ডোবা রয়েছে, আশে পাশের বাড়ীর পানি জমে এ জলাবদ্ধতার সৃস্টি হয়েছে।
ফলে বৃষ্টির পর থেকে এ সড়ক দিয়ে সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন উপজেলার হান্দুলিয়া, চামুটিয়া, কৈজুরি, মালশি, গওলা, ভ্রাম্মনবাড়ী, মৈশাললোহা গ্রাম ছাড়াও পার্শবর্তী ধামরাই উপজেলার ৫/৬ টি গ্রামের হাজার হাজার পথচারীদের চলাচল করতে মারাত্তক বাধা গ্রস্ত হচ্ছে।
৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২ টি কওমি মাদ্রাসা উপজেলার জনপ্রিয় ২ টি উচ্চ বিদ্যালয়সহ সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ সাটুরিয়া সৈয়দ কালুশাহ ডিগ্রী কলেজের কয়েক শতাধিক ছাত্র– ছাত্রী চলাচল করে এ সড়ক দিয়ে। হাটু পানি মারিয়ে ক্লাসে যেতে জামা কাপড় ভিযে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে সাটুরিয়া কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র আলামিন জানান, গওলা – সাটুরিয়া সড়কের সরকার বাড়ীর সামনে এবং হান্দুলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে ১২–১৪ ফিট ঝুড়ে জলাবদ্ধতা থাকে। ফলে আমরা পানি এরিয়ে বাড়ীর উপরদিয়ে যেতে চাইলে মালিকরা বাধা দেন।
হান্দুলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ জানান, হান্দুলিয়া সড়কে সামান্য বৃষ্টি হলেই হাটু জল জমে যায়। যা পরবর্তী ১০–১২ দিন ধরে থাকে। এতে আমাদের ঐ এলাকার শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে নানান সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
কলাশুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা দরবেশ আলী জানান, ১৫–১৬ বছর যাবৎ এই সড়কে সামান্য বৃসিট হলেই হাটু পানি জমে থাকে। ফলে এ থেকে পরিত্রান পেতে আমাদের সূর্যের্ আলোর উপর নির্ভশীল হতে হয়। পানি না শুকালে এ সড়ক দিয়ে হাটাদায়।
চামুটিয়া গ্রামের ব্যাবসায়ী নুরুল ইসলাম জানান, আমি বিভিন্ন গ্রাম থেকে দুধ কিনে ঢাকায় সরবরাহ করি। এ সড়কে পানি থাকার কারনে আমাদের বারতি টাকা খরচ করতে হয়ে বলে আমরা ব্যাবসায়িক ক্ষতির সম্মুক্ষিন হচ্ছি।
কৈজুরি গ্রামের ইঞ্জিনিয়ার আবুল বাশার, ও চামুটিয়া গ্রামের পিন্টু জানান, আমরা অফিসিয়াল ড্রেস পড়ে এ সড়ক দিয়ে যেতে পারি না। অফিসে গিয়ে প্রতিদিন আমাদের জামা কাপর পরিবর্তন করতে হয়।
কলাশুর গ্রামের ভ্যান চালক মরুব্বি বাবু জানান, সাটুরিয়া থেকে গওলার অনেক টিপ পাই, কিন্ত হান্দুলিয়া গ্রাম ও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে বৃস্টির কারনে হাটু জল থাকার কারনে আমরা টিপ ধরতে পারি না। বৃস্টির কারনে ঐ স্থান দিয়ে ভ্যান নিয়ে যাওয়াই যায় না।
এ ব্যাপারে সাটুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার হোসেন পিন্টু মানিকগঞ্জ ২৪ কে জানান, দীর্ঘ বছর ধরে এ সড়কে বৃষ্টি নামলেই জলাবদ্ধতা সৃস্টি হয় বিষয়টি স্বীকার করে জানান, ওয়ার্ডের সদস্য নিয়ে সরকারী কোন বরাদ্ধ পাই নি। সাময়িক বন্যা ও বৃস্টির কারনে বিভিন্ন সড়েকের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তাই আমার ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে ১০ হাজার টাকা বরাদ্ধ দিয়েছি।
এ বরাদ্ধ নিয়ে হান্দুলিয়া গ্রামের ফজলুর রহমান, শিক্ষক রুকন জানান, আমাদের গ্রামের দীর্ঘ দিনের সমস্যায় ভুগছি। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এক বছর হয়ে গেছে। এক বছরে কোন বরাদ্ধ কি আসে নি ? তিনি এ জলাবদ্ধতার জন্য ১০ হাজার টাকা বরাদ্ধ দিয়েছেন, যা দিয়ে সমস্যা দূর হবে না। তবে তারা মনে করেন যে কোন মূ্ল্যে তারা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি চান। তা না হলে তারা এ সড়ক নিয়ে সামাজিক আন্দোলনের নামার হুমকি দেন।
মানিকগঞ্জ২৪/ ২১ সেপ্টেম্বর/ ২০১৭।