রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে সাটুরিয়ার ডিসি পার্কের রূপ ও গুণ

হাসান ফয়জী , ২ জুলাই:

অবহেলা ও অযত্নে পড়ে আছে সাটুরিয়ার একমাত্র ডিসি পার্ক। কর্তৃপক্ষের সঠিক তদারকি না থাকায় মাদকসেবীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। ফলে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যায়ে দৃষ্টি নন্দন পার্কটি জন সাধারণের কোন কাজে আসছে না। তবে কর্তৃপক্ষ দাবী করছেন সরকারী ও বেসরকারী প্রকল্পের মাধ্যমে পার্কটি যুগ উপযোগী করা হবে দ্রæত।

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি ইউনিয়নের পূর্ব কুষ্টিয়া গ্রামে অবস্থিত ডিসি পার্ক। এটি বালিয়াটি জমিদারগণ বিনোদনের জন্য লন্ডন ও মালদিপের প্রাকৃতিক দ্বীপের আদলে এখানে কৃত্তিম দ্বীপ নির্মাণ করা হয়। ১৯৭১ এর পর দ্বীপটি বেদখল হয়ে পড়ে। পরে সাটুরিয়া উপজেলা প্রশাসন ৪ একর ৬৮ শতাংশ জমি সরকারীভাবে নিয়ন্তনে নেয়। এর পর ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল সাটুরিয়া তৎকালিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মূর্তাজা মাসুমের তত্বাবধানে তৎকালিন জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌস ডিসি পার্কটি উদ্বোধন করেন।

সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ পার্কটি উদ্বোধনের সময় একটি কাঠের সেতু, একটি গোল ঘর ও ওয়াশ রুম তৈরি করা হয়। এর পর সাটুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের মাধ্যমে ১৮-১৯, ২০-২১ এবং ২৪-২৫ অর্থ বছরে ৮ লক্ষ ৮১ হাজার ১৩ টাকা এবং সাটুরিয়া উপজেলা এলজিডি অফিসের মাধ্যমে ২১-২২, ২২-২৩ অর্থ বছরে ১০ লক্ষ টাকার অবকাঠামো নির্মাণের জন্য প্রকল্প নেওয়া হয়। কিন্তু এত টাকার প্রকল্প নেবার পরও তা শিশু ও জনসাধারণ সঠিকভাবে ব্যাবহার করতে পারছেন না।

সরেজমিনে গিয়ে সাটুরিয়া উপজেলার একমাত্র প্রশাসন কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত ডিসি পার্কটি মানিকগঞ্জ- টাঙ্গাইল আঞ্চলিক সড়কের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়টি ইউনিয়নের পূর্ব কুষ্টিয়া গ্রামে অবস্থিত। সড়কের পাশেই বড় একটি পুকুর । চতুরদিকে পানি ঠিক মাঝ খানে পূর্ব- পশ্চিমে লম্বা দ্বীপ আকৃতির। কিছুটা পশ্চিমে কাচা ভাঙ্গা চোড়া সড়ক পার হলেই চোখে পড়ল দৃষ্টি নন্দন দ্বিতল সেতু, উপরে রয়েছে টঙ্গ ঘড়। সেতুর পশ্চিমে পাকা বড় একটি ঘাটলা। ঘাটলা বেয়ে কিছু মানুষ গোসল করছে গরমের মধ্যে। আর সেতু পার হয়ে দ্বিপে গিয়ে দেখায় যায়, ডান পাশে যে টয়লেট রয়েছে। উদ্বোধনের পর সেটা আর খোলা হয় নি। আর দোলনা সহ কয়েকটি শিশুদের খেলনা সামগ্রী বসানো হয়েছে ২৩-২৪ অর্থ বছরে।

দোলনায় শিশুরা দোল খাওয়ার সময় দেখা গেল গোল ঘরে কিছু কিশোররা মোবাইলে গেম ও আড্ডা দিচ্ছে। উপস্থিত শিশুর সাথে আশা কয়েকজন অভিবাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শিশুদের জন্য খেলনা গুলি আনার পর বিকাল থেকেই পার্কটি ভরে যায়। কিন্তু ডিসি পার্কে বখাটে ছেলেরা দিনভর আড্ডা দেয়। এতে আমরা এখানে আসতে পারি না।

পূর্ব কুষ্টিয়া গ্রামের রমজান বলেন, আমি দুই বেলা হাটি। সড়কের পাশেই এ পার্কটি থাকার পরও নিরাপদ না থাকায় পার্কটি ব্যাবহার করতে পারছি না। এখানে রাতের বেলায় আলোক সজ্জা রাখা উচিত।

কাওন্নারা গ্রামের আতাউর রহমান বলেন, সাটুরিয়া উপজেলায় সরকারী ও বেসরকারী ভাবে কোন পার্ক নেই। কৃত্তিম এ দ্বীপ সম্বলিত সাটুরিয়া ডিসি পার্কটি অবহেলায় পড়ে আছে। উদ্যোগটি খুবই ভাল ছিল। কিন্ত সাটুরিয়া উপজেলা প্রশাসনের খামখেয়ালির কারনে এ পার্কটির ভগ্ন দশা। আমরা চাই দ্রæত পার্কটি যুগ উপযোগী করা হোক।

একই গ্রামের শাহিনুর ইসলাম বলেন, এই ইউনিয়নে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আয়তনের জমিদার বাড়ী রয়েছে। প্রতিদিন শত শত পর্যটকরা এই ডিসি পার্কের সামনে দিয়ে যাতায়াত করে। এখানে আরও সুন্দর করতে পারলে ডিসি পার্কের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করা সম্ভব।

বালিয়াটির রশিদপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীন বলেন, ডিসি পার্কের মত পানির মধ্যে দ্বীপ এটা বাংলাদেশের আর ২য়টি আছে কিনা আমাদের জানা নেই। তাছাড়া এখানে ৪ একর ৬৮ শতাংশ জমি রয়েছে। এখানে নতুন রেস্তোরো করা যেতে পাওে, জমিদার বাড়িতে আগতদের জন্য গাড়ি পার্কিং এর ব্যাবস্থা করা যেতে পারে। তাছাড়া বালিয়াটিতে জমিদার বাড়িতে যে পর্যটকরা রান্না করার স্থান নেই। পার্কটিকে যুগ উপযোগী করলে অনেক মানুষের কর্ম সংস্থান হবে । পাশা- পাশি পার্কটি হবে অন্যতম পর্যটন স্থান। প্রশাসনের নিকট জোর দাবী জানাচ্ছি পার্কটি যাতে পর্যাপ্ত বরাদ্ধ দিয়ে সংস্কার করা হয়।

এ ব্যাপারে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ডিসি পার্কটি দীর্ঘ দিন যাবৎ অবহেলা পড়ে ছিল। সাটুরিয়া প্রেসক্লাবের এক সদস্যেও মাধ্যমে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়েছে। ডিসি পার্কটি নিয়ে আমাদের বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে। দ্রুত আমরা এটি সংস্কারে হাত দিব। সাটুরিয়া বাসীর সহযোগীতায় এ পার্কটি সাটুরিয়া তথা জেলার অন্যতম প্রধান পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলব ।

মানিকগঞ্জ২৪/ হা.ফ/ ২ জুলাই ২০২৫।

আরো পড়ুুন