ফয়জী: মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় বুধবার রাত ৯ টার দিকে পুলিশের সাথে ডাকাত দলের
২ পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আহত হয়েছেন আরও ২ পুলিশ সদস্য।তবে এক ডাকাত কে আটক করতে সক্ষম হলেও
বাকী ডাকাতরা পালিয়ে গেছে। বুধবার রাত সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত ডাকাত আটক করার জন্য সাটুরিয়া
বাজারের আশে পাশে অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ।
গুলিবিদ্ধরা হচ্ছেন সাটুরিয়া থানার সেকেন্ড অফিসার এস, আই আসলাম ও এস, আই ওয়াহেদুজ্জামান,
আহত পুলিশ সদস্যরা হচ্ছে এস, আই হাসান ও কনষ্টেবল আলিম। আসলাম ও ওহাদেজ্জুমান কে সাটুরিয়া হাসপাতালে নিলে তাদের মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। বাকী দুই পুলিশ সদস্যকে
প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আমিনুর রহমান জানান, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে মানিকগঞ্জ শহরের নাগ জুয়েলার্সে
ককলেট ফাটিয়ে কর্মচারীদের জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে পালিয়ে যায় ডাকাত
দলের সদস্যরা।
পুলিশ সকল থানায় বিষয়টি জানিয়ে দিলে টহল জোরদার করা হয়। এ সময় আমরা সাটুরিয়া থানা পুলিশ একাধিক টহল জোরদার করি।
একটি টহল দরগ্রামে অবস্থান নেয়। এসময় ডাকাতদের হাইসটি দ্রুত যেতে গিয়ে এক পুলিশ সদস্যের
পায়ের উপর দিয়ে উঠে দিয়ে সাটুরিয়া বাজারের দিকে চলে যায়। ডাকাত নিশ্চিত হয়ে আরেক পুলিশ
দল সাটুরিয়া এসবি লিংক এর বাসস্ট্যান্ডের সামনে ট্রাক ও জিপ দিয়ে সড়কটি ব্যারিকেড দেয়।
বাজারে পৌঁছানোর আগেই ককটেল ফাটিয়ে ও গুলি করে আতংক সৃষ্টি করতে এগুতে থাকে। হাইসটি
ট্রাকের সামনে রেখে পুলিশ কে লক্ষ্য করে গুলি করতে করতে ডাকাতরা তাদের হাইসটি (ঢাকা মেট্টো- চ- ১৫-৬৫-৮৩) রেখে পালিয়ে যায়। এসময় তাদের গুলিতে এসআই আসলাম ও ওহাদেজ্জুমান আহত হয়।
জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত ডাক্তার সুলতানা জানান, এস, আই আসলামের বুকে গুলি লাগে, আর
এস, আই ওহাদুজ্জামান ডান হাতে প্রচন্ড আঘাত প্রাপ্ত হয়েছেন। তাদের অবস্থা গুরুতর
হওয়ায় মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। বাকী ২ পুলিশ সদস্য এস, আই
হাসান ও কনষ্টেবল আলিমকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, সাটুরিয়া
থানার মাজারের কাছে অভিযান পরিচালনা করে এক ডাকাত কে আটক করা হয়েছে।
হাইসটি আটকাতে সমর্থ হয়। কিন্তু ডাকাতরা গুলি ও ককটেল ফাটিয়ে সাটুরিয়া বাজারে আতংক
সৃষ্টি করে পালিয়ে যায়। এ সময় বাজারের ব্যাবসায়ীরা দোকান লুটের ভয়ে দোকান দ্রুত বন্ধ
করে দেয়।
বিষয়টি জানানো হলে হাজারো জনতা লাঠিসোটা নিয়ে সড়কে নেমে আসে।
হাইসটি জব্দ করতে পারলেও মালামাল হাইসে আছে কি না বুধবার রাত ১১. ৪০ এর দিকেও নিশ্চিত
করতে পারে নি। আটক ডাকাতের নাম পরিচয়ও জানা যায় নি।
আর এখনও ডাকাতদের আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।
১৫ নভেম্বর/ ২০১৭।
