সোনালীর ঘরে পৌঁছাল বিমান ও পর্যটন মন্ত্রীর রিতার সহায়তা

সাটুরিয়া প্রতিনিধি, ৪ এপ্রিল

শিলাবৃষ্টিতে ঝাঁজরা হয়ে যাওয়া টিনের চালের নিচে অসহায় দিন কাটছিল সোনালীর পরিবারের। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরে পানি পড়ত, ভিজে যেত বিছানা, বই-খাতা আর স্বপ্নগুলো। সন্তানদের নিয়ে পলিথিন টাঙিয়ে রাত পার করা যেন ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা। সেই দুঃসহ জীবনের গল্পই বদলে দিল এক টুকরো সংবাদ।

দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন গণমাধ্যম মানিকগঞ্জ২৪.কম “শিলাবৃষ্টির আঘাতে ছিদ্র চালের নিচে দিন কাটছে শ্রমিক সোনালীর” শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। শনিবার দুপুরে সাটুরিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে তিনি নিজ হাতে সোনালী হোসেনের কাছে নগদ অর্থ তুলে দেন।

এসময় সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন,মানিকগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সালাউদ্দিন, পিপিএম-সেবা,সাটুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মৌমিতা গুহ ইভা, সাটুরিয়া থানার ওসি তদন্ত আসাদ্জ্জুামানসহ বিভিন্ন দপ্তর প্রধানগণ উপস্থিত।

মন্ত্রী জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যেই সোনালীর পরিবারের জন্য তিন বান টিনসহ অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে, যাতে তারা নতুন করে নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে পারেন।

সাটুরিয়া উপজেলার সাভার গ্রামের দিনমজুর সোনালী হোসেন, পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘরে। সাম্প্রতিক শিলাবৃষ্টিতে সেই ঘরের চাল ছিদ্র হয়ে গেলে তাদের জীবন হয়ে ওঠে চরম দুর্বিষহ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, “গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ মন্ত্রীর নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ দেন। সত্যতা যাচাইয়ের পর তিনি নিজেই এসে সহায়তা প্রদান করেছেন—এটি সত্যিই প্রশংসনীয়।”

সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত সোনালী বলেন, “বৃষ্টি নামলেই ভয় পেতাম। ঘরের সবকিছু ভিজে যেত। এখন মনে হচ্ছে আল্লাহ আমাদের দিকে তাকিয়েছেন। মন্ত্রী আমাদের কথা ভেবেছেন—এটাই সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা।”

স্থানীয়দের মতে, গণমাধ্যমের ইতিবাচক ও মানবিক ভূমিকার ফলেই আজ একটি অসহায় পরিবার নতুন আশার আলো দেখছে। একটি সংবাদ কেবল তথ্যই দেয় না—কখনো কখনো বদলে দেয় মানুষের জীবনও।

মানিকগঞ্জ২৪/ হা.ফ/ ৪ এপ্রিল ২০২৬।

আরো পড়ুুন