সাটুরিয়ায় পল্লী চিকিৎসকের মুক্তির দাবীতে মানববন্ধন

সাটুরিয়া  প্রতিনিধি, ৬ আগষ্ট:

সাটুরিয়া উপজেলার পল্লী চিকিৎসক আবুল কাশেমের নিঃশর্ত মুক্তির দাবী এবং তাকে মারধর করার অভিযুক্ত আবু বক্কর সিদ্দিকের বিচারের দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে সাটুরিয়া উপজেলা পরিষদ চত্তরে ঘন্টা ব্যাপি এ মানববন্ধনে পল্লী চিকিৎসক এর পরিবার, এলাকাবাসী ও অন্যান্য পল্লী চিকিৎসকরা অংশ গ্রহণ করে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পল্লী চিকিৎসক আবুল কাশেমের স্ত্রী নাজমা আক্তার, মা ওজালা বেগম, এলাকাবাসী জহির মিয়া, রাশেদা বেগম, পল্লী চিকিৎসক সাকিল হোসেন, আমিনুর রহমানসহ আরও অনেকেই।

বক্তারা বলেন, পল্লী চিকিৎসক আবুল কাশেম এর বাড়ি সাটুরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকা ধামরাই উপজেলার নান্দেশ^রী এলাকায়। তিনি গবাদি পশু চিকিৎসক । এলাকায় খুব অল্প টাকায় চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। এ নিয়ে সাটুরিয়া উপজেলার হান্দুলিয়া গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিক পল্লী চিকিৎসক আবুল কাশেমের নিকট চাঁদা দাবী করে আসছিল।

পল্লী চিকিৎসক আবুল কাশেম শনিবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে সাটুরিয়া ইউনিয়নের হান্দুলিয়া এলাকায় পশু চিকিৎসা করতে গেলে আবু বক্কর সিদ্দিক তার কয়েকজন সহযোগী নিয়ে তাকে আটকে রাখে। ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। কাশেম কে আটক রেখে তার বাড়ীতে লোক পাঠিয়ে চাঁদার টাকা নিয়ে আসে। এ খবর পেয়ে কাশেম কে উদ্ধার করতে গেলে আবু বক্কর সিদ্দিক তাদের সবাইকে মারধর করে। এতে কাশেম ও তার মা ওজালা বেগম আহত হয়। ওজালা বেগম এর হাতও ভেঙ্গে যায় বলে বক্তারা দাবী করেন।

পল্লী চিকিৎসক আবুল কাশেম এর স্ত্রী নাজমা আক্তার বলেন, ৩০ হাজার টাকা দেবার পরও আবু বক্কর সিদ্দিক আরও ২ লক্ষ টাকা দাবী করেন। টাকা না পেয়ে আমাদের মারধর করে নিজে কাধার মধ্যে গড়া গড়ি করে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে আমাার স্বামীর নামে অভিযোগ করেন। পরে আমার স্বামী বক্করের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ তাকে আটক করে আদালতে পাঠায়। তিনি মানববন্ধনের মাধ্যমে তার স্বামীর মুক্তি ও আবু বক্করের ঘটনায় তদন্ত করে তার বিচারের দাবী করেন।

এ ব্যাপারে আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আমি পল্লী চিকিৎসক পল্লী চিকিৎসক আবুল কাশেম এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে তার দলবল নিয়ে আমার ওপর হামলা করে। এ ঘটনায় কাশেম কে থানা পুলিশ আটক করে আদালতে পাঠিয়েছে। মানবন্ধনে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যা।

এ ব্যাপারে সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাটুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবুল বাশার সরকার বলেন, এ ঘটনা আমি জানি। পল্লি চিকিৎসক আবুল কাশেম এর নিকট চাঁদা দাবী করে আসছিল আবু বক্কর। চাঁদার ৩০ হাজার টাকা নেবার পরও কাশেম কে আটকে রাখে। এ ঘটনায় উল্টো কাশেমকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করা উচিত বলে আমি মনে করি।

এ ব্যাপারে সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহীনুল ইসলাম বলেন, আবু বক্কর সিদ্দিক কে মারধরের ঘটনায় সে হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। পরে আমরা অভিযোগের ভিত্তিত্বে আবুল কাশেমকে আটক কর আদালতে পাঠাই।

মানিকগঞ্জ২৪/ হা.ফ/ ৬ আগষ্ট ২০২৫।

আরো পড়ুুন