মানিকগঞ্জে সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত: দায়ীদের গ্রেপ্তারে সম্পাদক পরিষদের দাবী

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি, ৪ সেপ্টেম্বর.

শুধু এক সাংবাদিকের উপর হামলা নয়, এটি যেন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছে—গণমাধ্যমকর্মীর নিরাপত্তা কোথায়?

শিবালয় উপজেলার উথুলী এলাকায় ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া হামলার সাত দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো গ্রেফতার হয়নি অভিযুক্তরা। আহত হয়েছেন সাপ্তাহিক অগ্নিবিন্দু পত্রিকার সম্পাদক এবং সম্পাদক পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক আকমল হোসেন।

প্রতিবাদের ভাষা থেমে থাকেনি। শনিবার (৪ অক্টোবর) মানিকগঞ্জ শহরের শহীদ রফিক সড়কে অবস্থিত সম্পাদক পরিষদের কার্যালয়ে এক জোরালো প্রতিবাদ সভায় উঠে এসেছে ক্ষোভ, আশঙ্কা এবং প্রতিজ্ঞার মিশ্র ধ্বনি।

সভায় বক্তারা স্পষ্ট করে বলেন—“এটি শুধু আকমল হোসেনের উপর আঘাত নয়, এটি পুরো সাংবাদিক সমাজকে ভয় দেখানোর হীন প্রয়াস।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন সম্পাদক পরিষদের সহসভাপতি মাহবুল আলম জুয়েল। সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেনের সঞ্চালনায় এসময় আরো বক্তব্য রাখেন, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সম্পাদক পরিষদের সম্মানিত সদস্য গোলাম ছানোয়ার ছানু, সাবেক সাধারন সম্পাদক আশরাফুল আলম লিটন, যুগ্ন-সম্পাদক খন্দকার সুজন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আকমল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক আক্তার হোসেন মিলন, কার্যকরী সদস্য আব্দুল আলীম প্রমুখ।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, বহিষ্কৃত যুবদল নেতা জাহিদুল ইসলাম সাদ্দামের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে চালানো হয় এই হামলা। মামলা দায়ের হলেও সাত দিনেও কোনো আসামি গ্রেফতার হয়নি, যা স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে উদ্বেগের আগুন ছড়িয়ে দিয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্ন—“আমরা যদি নিরাপদ না থাকি, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কাকে জিজ্ঞেস করবো?”

তবে পুলিশ সুপার মোছা: ইয়াছমিন খাতুন জানিয়েছেন, শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ঘিরে কিছু বিলম্ব হয়েছে, তবে মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। “আশা করছি দ্রুতই অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে”—বলেছেন তিনি।

তবে এখানেই শেষ নয়। সম্পাদক পরিষদ এবার আর নীরব থাকার পক্ষে নয়। ঘোষণা এসেছে—গ্রেপ্তার না হলে কঠোর কর্মসূচি হবে অনিবার্য।

এই হামলা সাংবাদিকতার উপর এক পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় ব্যর্থতা মানে শুধুই একজন আকমলের পরাজয় নয়—এটি ন্যায়ের, বাকস্বাধীনতার, মুক্ত বিবেকের পরাজয়।

সভায় বক্তারা বলেন, হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ব্যর্থ হলে সম্পাদক পরিষদ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। এসময় পরিষদের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপারের বরাবর একটি স্বারকলিপি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

মানিকগঞ্জ২৪/ হা.ফ/ ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫।

আরো পড়ুুন