দৌলতপুর প্রতিনিধি, ১৪ অক্টোবর.
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তার কার্যালয়ের নাজির মো. সোহেল মাহবুবের বিরুদ্ধে সেবার নামে অনিয়ম, ঘুষ, দুর্নীতি ও হয়রানিসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে।
ভূমি অফিসের চৌকাঠ পেরুলেই তার আইন মানতে হয়। এ কারণেই ভূমি সংক্রান্ত বিরোধও বেড়েছে বহুগুণ। দীর্ঘদিন ধরে দৌলতপুর ভূমি অফিসে কর্মরত তিনি। অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে নিজের পকেট ভারি করা এ কর্মকর্তার বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে সম্প্রতি বিভাগীয় কমিশনারে কার্যালয়ে , জেলা প্রশাসক, এডিসি রাজস্বসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করা হয়।
ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ করেন না তিনি। গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে ভূমি অফিসে আসা অধিকাংশ ভুক্তভোগীই জানান, হয়রানি আর ভোগান্তি কী-তা এখানে না এলে বোঝা যায় না। অফিসের প্রত্যেক ধাপে ঘুষ দিয়েই ফাইল এসিল্যান্ডের টেবিল পর্যন্ত পৌঁছাতে হয়।
জানা যায়, মো. সোহেল মাহবুব মূলত অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক। কিন্তু তিনি যে উপজেলায় গেছেন স্থানীয় এসিল্যান্ডকে ম্যানেজ করে নাজিরের দায়িত্ব পালন করেছেন। এটাই তাঁর আয়ের কৌশল।
দৌলতপুর উপজেলার চকমিরপুর ইউনিয়নের স্বপন মিয়া ও নিলুয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শহিদুল ইসলাম সহ এলাকাবাসী সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাছে লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করেন এবং ভূমি অফিসের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
অভিযোগে বলা হয়, নাজির মো. সোহেল মাহবুব অভিযোগকারীদের কোন মৌখিক শুনানি ও বক্তব্য না নিয়ে জমির কাগজপত্র না দেখে বিভিন্ন ভাবে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি করেন। অশ্লীল ভাষায় কথা বলেন।
সেবাপ্রার্থী স্বপন মিয়া অভিযোগ করেছেন, নাজির মো. সোহেল মাহবুব অবৈধ ভাবে কোটি টাকা দিয়ে ঢাকা অভিজাত এলাকায় ফ্লাট ক্রয় করেছেন।
জানা যায়, এর আগেও ঘুষ ও দুর্নীতির কারণে মো. সোহেল মাহবুব বিভিন্ন উপজেলায় বির্তকিত ছিলেন। বিতর্কিত কারণে বদলি হয়ে অন্য উপজেলায় চাকরি করলেও তিনি আবার দ্রুত চলে আসেন নিজ উপজেলায় দৌলতপুরে। তার ছোট ভাই চকমিরপুর সদর ইউনিয়নের যুবলীগের সভাপতি। আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে এমন কোন কাজ নাই তিনি করেন নাই। স্বৈরাচারী সরকার শেখ হাসিনার পতন হলেও থেমে নেই নাজির সোহেল মাহবুবের অপকর্ম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান- নাজির মো. সোহেল মাহবুব ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে বিপুল পরিমান সম্পদ গড়েছেন। দুদক তদন্ত করলে অভিযোগের সত্যতা মিলবে বলে অভিযোগকারীরা।
এ ব্যাপারে নাজির মো. সোহেল মাহবুব নাম্বারে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।
মানিকগঞ্জ২৪/ হা.ফ/ ১৪ অক্টোবর ২০২৫।